কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস। কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার। সর্বহারা পথ কর্তৃক বাংলায় ভাষান্তর ৩য় পর্বঃ ১৮৮৩ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা।

১৮৮৩ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা [১১]

বর্তমান সংস্করণের ভুমিকায় হায় আমাকে একাই স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। যে লোকটির প্রতি ইউরোপ ও আমেরিকার সমগ্র শ্রমিক শ্রেণী অন্য যে কারো চেয়ে বেশী ঋণী, তিনি হচ্ছেন মার্কস, আজ হাইগেট সমাধিতে চির বিশ্রামরত, আর তাঁর কবরে ইতিমধ্যেই বেড়ে উঠেছে প্রথম ঘাঁশ। তাঁর মৃত্যুর পর ইশতেহারের সংশোধন অথবা সংযুক্তির চিন্তা অনেক কম করা যায়। যতটুকু পুনরায় বলার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি বিবেচনা করি তা হচ্ছেঃ

ইশতেহারে প্রবহমান মূল চিন্তা হচ্ছে—প্রত্যেক ঐতিহাসিক যুগে যে অর্থনৈতিক উৎপাদন ও তা থেকে সমাজের যে কাঠামো আবশ্যিকভাবে উদ্ভূত হয় তা ঐ যুগের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃদ্ধিক ইতিহাসের ভিত্তি গঠন করে; ফলতঃ সকল ইতিহাস (ভুমির আদিম সাধারণ মালিকানার বিলোপের পর থেকে) হয়ে এসেছে শ্রেণীসংগ্রামের ইতিহাস, সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তরে শোষিত ও শোষক, অধীনস্থ ও অধিপতি শ্রেণীসমূহের মধ্যে সংগ্রামের ইতিহাস, আর এই সংগ্রাম এখন এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে শোষিত ও নিপীড়িত শ্রেণী (সর্বহারা শ্রেণী) তাকে শোষণ ও নিপীড়ণ করে যে শ্রেণী (বুর্জোয়া) তার থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা সমগ্র সমাজকে শোষণ, নিপীড়ণ ও শ্রেণীসংগ্রাম থেকে চিরতরে মুক্ত না করে। এই মূল চিন্তাধারা সম্পুর্ণরূপে ও একমাত্র মার্কসেরই [*]। ইতিমধ্যে একথা আমি বহুবার বলেছি; কিন্তু এখনই এটা ইশতেহারের পুরোভাগেও যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

এফ. এঙ্গেলস

লন্ডন, ২৮ জুন ১৮৮৩

[*] “ইংরেজী অনুবাদের ভুমিকায় আমি এই প্রস্তাবনা লিখেছিলামঃ “যা আমার বিবচেনায় ইতিহাসের জন্য তাই করেছে ডারউইনের তত্ত্ব জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যা করেছে। ১৮৪৫ এর কিছু বছর আগে থেকে আমরা উভয়ে ক্রমান্বয়ে এর দিকে এগুচ্ছিলাম। আমি স্বতন্ত্রভাবে যতটুকু এর দিকে এগিয়েছিলাম তা আমার ‘ইংল্যান্ডে শ্রমিক শ্রেণীর ভুমিকা’ বইয়ে সবচেয়ে ভালভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমি যখন পুনরায় মার্কসের সাথে ব্রাসেলসে মিলিত হলাম ১৮৪৫-এর বসন্তে, তিনি এটা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করে ফেলেছেন আর আমার কাছে উপস্থাপন করলেন এখন আমি যতটা পরিষ্কারভাবে এখানে ব্যক্ত করেছি ততটাই।” [১৮৯০ এর জার্মান সংস্করণে এঙ্গেলসের টীকা]