কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস। কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার। সর্বহারা পথ কর্তৃক বাংলায় ভাষান্তর ২য় পর্ব। ১৮৮২ সালের রুশ সংস্করণের ভুমিকা

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার

 

সর্বহারা পথ কর্তৃক বাংলায় ভাষান্তর ২য় পর্ব

 

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

১৮৮২ সালের রুশ সংস্করণের ভুমিকা       

বাকুনিন কর্তৃক অনুদিত আর কলোকল মুদ্রন [৭] কর্তৃক মুদ্রিত হয়ে কমিউনিস্ট ইশতেহারের প্রথম রুশ সংস্করণ ষাটের দশকের শুরুতে প্রকাশিত হয় [৮]। তখন পশ্চিমারা একে (ইশতেহারের রুশ সংস্করণ) মনে করে থাকতে পারে স্রেফ সাহিত্যিক ঔৎসুক্যের প্রকাশ মাত্র। এরকম একটি দৃষ্টিভঙ্গি আজকে অসম্ভব।

সেসময় সর্বহারা আন্দোলন কতটাই না সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র দখল করে ছিল (ডিসেম্বর ১৮৪৭) তা সর্বাধিক পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে ইশতেহারের শেষ অংশঃ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিরোধী পার্টির সম্পর্কে কমিউনিস্টদের অবস্থান। রাশিয়া আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথাই সেখানে নেই। এটা ছিল এমন একটা সময় যখন রাশিয়া ছিল সকল ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার সর্বশেষ বৃহৎ শেষ আশ্রয়, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসনের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে উদ্বৃত্ত সর্বহারা শক্তিসমূহ শুষে নিয়েছে। উভয় দেশই ইউরোপকে কাঁচামাল সর্বরাহ করত আর ইউরোপের শিল্পজাত সামগ্রীর বাজার ছিল। সেসময় উভয় দেশই ছিল কোন না কোন ভাবে বিদ্যমান ইউরোপীয় প্রচলিত ব্যবস্থার ভিত্তি।

আজকে কতই না ভিন্ন! মূর্তভাবে ইউরোপীয় অভিবাসন উত্তর আমেরিকায় এক অতিকায় কৃষি উৎপাদন সম্ভব করে তুলেছে, যার প্রতিযগিতা ইউরোপীয় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ নির্বিশেষে ভুমি সম্পত্তির খোদ ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। তার সাথে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সক্ষম করে তুলেছে তার শিল্পের খনিজ উৎসকে এমন এক শক্তি ও মাত্রায় কাজে লাগাতে যা অচিরেই পশ্চিম ইউরোপের বিশেষত ইংলন্ডের এযাবত কালের বিদ্যমান শিল্প একচেটিয়াকে ভেঙে ফেলতে বাধ্য। উভয় পরিস্থিতি খোদ আমেরিকার উপরেই বিপ্লবী উপায়ে প্রতিক্রিয়া করে। কৃষকদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ভুমি মালিকানা, যা হচ্ছে সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি, ধাপে ধাপে তা অতিকায় খামারগুলোর প্রতিযোগিতার কাছে হার মানছে; একইসাথে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সর্বহারা শ্রেণীর সমাবেশ ঘটছে আর বিপুল পুঁজির কেন্দ্রীভবন ঘটছে প্রথমবারের মত।

আর এখন রাশিয়া! ১৮৪৮-৪৯ এর বিপ্লবের সময় ইউরোপীয় রাজন্যবর্গই শুধু নয়, ইউরোপীয় বুর্জোয়ারাও সদ্যজাগরণরত সর্বহারা শ্রেণীর হাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল রুশ হস্তক্ষেপের মধ্যে। জারকে ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়ার সর্দার ঘোষণা করা হয়েছিল। আজ সে গ্যাৎচিনায় [৯] বিপ্লবের কাছে যুদ্ধবন্দী। আর রাশিয়া হয়েছে ইউরোপের বিপ্লবী তৎপরতার অগ্রপথিক।

আধুনিক বুর্জোয়া সম্পত্তির আসন্ন অনিবার্য ধ্বংস ঘোষণাই ছিল কমিউনিস্ট ইশতেহারের লক্ষ্য। কিন্তু রাশিয়ায় আমরা পাই, একদিকে দ্রুত বিকাশমান পুঁজিবাদী জোচ্চুরী আর সদ্য বিকশিত হতে শুরু করা বুর্জোয়া ভুসম্পত্তির মুখোমুখি অর্ধেকের বেশী ভুমি রয়েছে কৃষকদের সাধারণ মালিকানাধীন। এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ, যদিও ব্যাপকভাবে দমিত, তথাপি ভুমির আদিম সাধারণ মালিকানার একটি ধরণ এই যে রুশ অবশ্চিনা [১০], তা কি সরাসরি উচ্চতর কমিউনিস্ট সাধারণ মালিকানার দিকে যাবে? নাকি বিপরীতে সেই একই ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় যাবে যা পশ্চিমের বিবর্তনের ঐতিহাসিক ধারা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে? এর একমাত্র যে উত্তর আজ সম্ভব তা হচ্ছেঃ যদি রুশ বিপ্লব পশ্চিমের সর্বহারা বিপ্লবের সংকেত হয়, যাতে উভয় উভয়ের পরিপূরক হয়, বর্তমান রুশ ভুমির সাধারণ মালিকানা একটা কমিউনিস্ট বিকাশের সূচনা বিন্দু হিসেবে সেবা করতে পারে।

কার্ল মার্কস, ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

লন্ডন

২১ জানুয়ারী ১৮৮২