কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস। কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার। সর্বহারা পথ কর্তৃক বাংলায় ভাষান্তর শুরু (এপ্রিল ২০১৫)। ১৮৭২ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার

marxandengelscolorful

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

সর্বহারা পথ কর্তৃক বাংলায় ভাষান্তর শুরু এপ্রিল ২০১৫

ডিসেম্বর ১৯৪৭ থেকে জানুয়ারী ১৮৪৮-এর মধ্যে লিখিত। লন্ডনে পাম্ফলেট আকারে প্রথম প্রকাশিত মূল জার্মান ভাষায়।

জার্মান ভাষায় ১ম প্রকাশ ১৯৪৮

জার্মান থেকে ইংরেজী ভাষান্তরঃ স্যামুয়েল মুর, অনুবাদ সম্পাদনা ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

এই ইংরেজী কপিটি নেওয়া হয়েছে www.marx2mao.com [Prepared © for the Internet by David J. Romagnolo, djr@mar2mao.org / (November 1997) (Corrected and Updated January 2002)] থেকে। বর্তমান ইংরেজী পাঠটি ১৮৪৮ এর মূল জার্মান থেকে ১৮৮৮ সালে স্যামুয়েল মুর কর্তৃক অনুদিত ও ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস কর্তৃক সম্পাদিত, বিদেশী ভাষা প্রকাশনালয় পিকিঙ ১৯৭০ থেকে নেওয়া হয়েছে; এর প্রথম প্রকাশ ১৯৬৫, দ্বিতীয় প্রকাশ ১৯৬৮, তৃতীয় প্রকাশ ১৯৭০। বর্তমান পাঠে ১৮৮৮ এর ইংরেজী সংস্করণ ও ১৮৯০ এর জার্মান সংস্করণের জন্য এঙ্গেলসের পাদটীকা রয়েছে। এছাড়া লেখকদের ভুমিকা রয়েছে বিভিন্ন সংস্করণের জন্য। শেষে সমাপনী টীকা গণপ্রকাশন, পিকিঙ, সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ এর চীনা সংস্করণ ভিত্তিক।

সুচি

১৮৭২ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা

১৮৮২ সালের রুশ সংস্করণের ভুমিকা

১৮৮৩ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা

১৮৮৮ সালের ইংরেজী সংস্করণের ভুমিকা

১৮৯০ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা

১৮৯২ সালের পোলিশ সংস্করণের ভুমিকা

১৮৯৩ সালের ইতালীয় সংস্করণের ভুমিকা

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার

১। বুর্জোয়া ও সর্বহারা

২। সর্বহারারা ও কমিউনিস্টরা

৩। সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট সাহিত্য

১) প্রতিক্রিয়াশীল সমাজতন্ত্র

ক) সামন্ত সমাজতন্ত্র

খ) পেটি বুর্জোয়া সমাজতন্ত্র

গ) জার্মান অথবা “খাঁটি” সমাজতন্ত্র

২) রক্ষণশীল অথবা বুর্জোয়া সমাজতন্ত্র

৩) সমালোচনামূলক ইউটোপীয় সমাজতন্ত্র আর কমিউনিজম

৪। বিদ্যমান বিভিন্ন বিরোধী পার্টিগুলির সাথে কমিউনিস্টদের সম্পর্ক

টীকা

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার [১]

 

১৮৭২ সালের জার্মান সংস্করণের ভুমিকা [২]

কমিউনিস্ট লীগ, শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক এক সংস্থা, যা কেবল এক গোপন সংগঠনই হতে পারতো সেই পরিস্থিতিতে, ১৮৪৭ সালের নভেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে নিম্নস্বাক্ষরকারীদের দায়িত্ব দেয় প্রকাশের জন্য পার্টির বিশদ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কর্মসূচি তৈরী করতে। নিচের ইশতেহারের উদ্ভব ছিল এমনই যার পাণ্ডুলিপি মুদ্রণের জন্য পরিভ্রমণ করে লন্ডনে, ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের [৩] কয়েক সপ্তাহ পূর্বে। প্রথম প্রকাশ হয় জার্মান ভাষায়, একই ভাষায় পুনমুদ্রিত হয়ে কমপক্ষে বারটি বিভিন্ন সংস্করণে প্রকাশিত হয় জার্মানী, ইংলন্ড আর আমেরিকায়। এর ইংরেজী ভাষায় প্রথমবারে মত প্রকাশ হয় ১৮৫০ সালে রেড রিপাবলিকান [৪], লন্ডনে, অনুবাদ করেন মিস হেলেন ম্যাকফার্লেন, আর ১৮৭১ সালে আমেরিকায় তিনটি ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদ প্রকাশিত হয়। প্রথম ফরাসী সংস্করণ আবির্ভুত হয় প্যারিসের ১৮৪৮-এর জুন অভ্যুত্থানের সামান্য আগে আর সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে লা সোশ্যালিস্তে [৫]। নতুন একটি অনুবাদ প্রস্তত হচ্ছে। প্রথম জার্মান প্রকাশের অল্প কিছুকাল পরেই পোলিশ সংস্করণ আবির্ভুত হয়। ষাটের দশকে জেনেভায় প্রথম রুশ অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রথম প্রকাশের অল্প কিছুকাল পরেই ড্যানিশ ভাষায়ও প্রকাশিত হয়।

যাহোক, বিগত পঁচিশ বছরে অনেক ওলট পালট ঘটেছে, কিন্তু ইশতেহারে স্থাপিত সাধারণ নীতিমালা সামগ্রিকভাবে আজকেও একই আছে। এখানে সেখানে কিছু বিস্তারিত ব্যাখার উন্নতি করা যেত। ইশতেহার যেমনটা বলেছে, সর্বত্র ও সর্বদাই নীতিমালার ব্যবহারিক প্রয়োগ নির্ভর করছে সে সময়ের ঐতিহাসিক পরিস্থিতির উপর, আর তাই, দ্বিতীয় অধ্যায়ের শেষে যেসব বিপ্লবী পদক্ষেপ প্রস্তাবিত হয়েছে তার উপর বিশেষ জোর দেয়া হয়নি। আজকে ঐ অনুচ্ছেদটি অনেক দিক থেকেই খুবই ভিন্নভাবে লিখতে হত। বিগত পঁচিশ বছরে আধুনিক শিল্পের অতিকায় অগ্রগতি, সেইসাথে বিকশিত ও সম্প্রসারিত শ্রমিক শ্রেণীর পার্টি সংগঠনগুলি, আর প্রথমে ফ্রেব্রুয়ারী বিপ্লব তারপর তার চেয়ে আরো বেশি যা সেই প্যারী কমিউন যেখানে সর্বহারা শ্রেণী সর্বপ্রথমবারের মত দুই মাসের জন্য ক্ষমতা দখল করে রাখে, ইত্যাদি প্রেক্ষিতে যে বাস্তব অভিজ্ঞতাসমূহ অর্জিত হয়েছে তা থেকে দেখা যায় ইশতেহারের কর্মসূচি কিছু বিস্তারিতর দিক থেকে সেকেলে হয়ে গেছে। কমিউন বিশেষভাবে এই জিনিসটা প্রমাণ করেছে যে “শ্রমিক শ্রেণী তৈরি রাষ্ট্রযন্ত্রটাকে দখলে পেয়েই নিজের কাজে লাগাতে পারেনা।” (দেখুন ফান্সে গৃহযুদ্ধ; আর এই পয়েন্টটাকে আরো বিকশিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী সমিতির সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা, লন্ডন, ট্রুলাভ, ১৮৭১, পৃঃ ১৫-এ)। এটা আরো স্বতস্পষ্ট যে সমাজতান্ত্রিক সাহিত্যের সমালোচনা আজকের দিনের তুলনায় কম আছে, কারণ সেটা ছিল কেবল ১৮৪৭ পর্যন্ত; একইভাবে বিভিন্ন বিরোধী পার্টির সাথে কমিউনিস্টদের সম্পর্কের উপর মন্তব্য (চতুর্থ অধ্যায়) যদিও নীতিগতভাবে এখনো সঠিক, তবু ব্যবহারিকভাবে সেকেলে হয়ে গেছে, কেননা রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমগ্রভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, আর ইতিহাসের প্রগতি সেখানে উল্লেখিত অধিকাংশ রাজনৈতিক পার্টিকেই এই দুনিয়া থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করেছে।

কিন্তু ইশতেহার এখন একটা ঐতিহাসিক দলিল হয়ে গেছে যার পরিবর্তন করার কোন অধিকার আর আমাদের নেই। ১৮৪৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে ব্যবধান তা পুরণ করার জন্য সুচনাসমেত একটা নতুন সংস্করণ হয়তো আবির্ভূত হবে; এই পুনমুদ্রণ এত অপ্রত্যাশিতভাবে বেরল যে তার জন্য আমরা কোন সময় পাইনি।

কার্ল মার্কস ফ্রেডারিখ এঙ্গেলস

২৪ জুন ১৮৭২

[বাংলা রূপান্তর চলবে]