সিরাজ সিকদার রচনাঃ প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির নবম অধিবেশনের ইশতেহার (সম্ভবতঃ জুন, ১৯৭৩)

সিরাজ সিকদার রচনা

প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির নবম অধিবেশনের ইশতেহার

(সম্ভবতঃ জুন, ১৯৭৩)

sikder

পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির নবম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সাফল্যজনকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সভাপতিত্ব করেন।

১) সভায় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির অষ্টম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ইশতেহার পর্যালোচনা করা হয় এবং তা সংশোধনী ও সংযোজনীসহ গৃহীত হয়।

অষ্টম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়িত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

২) সভায় পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি “পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টির বিজয় অনিবার্য” দলিলটি পর্যালোচনা করা হয়।

ইহা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার সারসংকলন সম্বলিত একটি ঐতিহাসিক দলিল। এ দলিলের বিষয়বস্তুসমূহ প্রয়োগের জন্য সর্বস্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভায় দলিলটি গৃহীত হয়।

৩) বর্ষাকালীন রণনৈতিক আক্রমণ চালাবার জন্য সংগঠনের মতাদর্শগত, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বা হচ্ছে।

সভায় ইহা পর্যালোচনা করা হয়।

কয়েকটি বিষয়ের উপর শুদ্ধি অভিযান, চক্রবিরোধী সংগ্রাম, গোড়ামীবাদ বিরোধী সংগ্রাম, শিক্ষা সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মীদের মতাদর্শগত প্রস্তুতি অর্জিত হয়েছে। এ মতাদর্শগত সংগ্রাম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য চিন্তাধারাকে পরিবর্তন করা, কর্মরীতিকে সংশোধন করা এবং কমরেড সিরাজ সিকদারের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের আন্দোলন সমগ্র বর্ষাকালীন আক্রমণের সময় চালিয়ে যেতে হবে।

আমাদের সঠিক রাজনৈতিক লাইন, জনগণের উঁচু চেতনা, তাদের সরকার বিরোধী জঙ্গী মনোভাব, জনগণ থেকে শত্রুর বিচ্ছিন্নতা, শত্রুর নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, আন্তর্জাতিকভাবে ভারত, সোভিয়েটের নিঃসঙ্গতা, ব্যাপক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জাতীয় মুক্তি ফ্রন্টের লাইন, আন্তরিকভাবে সর্বহারা বিপ্লবীদের ঐক্যের লাইন, বিভিন্ন আকৃতির সংশোধনবাদী ও সংস্কারবাদীদের দেউলিয়াত্ব, ব্যাপক প্রচার আমাদের চমৎকার রাজনৈতিক প্রস্তুতির সৃষ্টি করেছে।

উপদলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং তা ধ্বংস করা, এককেন্দ্রকে শক্তিশালী করা, বাসিটা বর্জন, টাটকাটা গ্রহণ, সাংগঠনিক সুসুংবদ্ধকরণ, কর্মীস্বল্পতা দূর করা, জাতীয় মুক্তিফ্রন্ট গঠন, একনাগারে বিস্তৃত অঞ্চলে কাজ, শহরে-গ্রামে কাজ, গোপন কর্মপদ্ধতি, প্রকাশ্য কাজের সাথে গোপন কাজের সমন্বয়, উন্নততর পদ্ধতিতে সংগঠন চালাবার বুদ্ধিসমূহ চমৎকার প্রস্তুতির সৃষ্টি করেছে।

পূর্ববাংলার সশস্ত্র দেশপ্রেমিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিচালক মণ্ডলী গঠন, বিভিন্ন সেকটরে বিভাগ, সামরিক গঠন (Formation), বিভিন্ন অঞ্চলে অভিজ্ঞ সামরিক নেতৃত্বের উপস্থিতি, রণনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন, অস্ত্র এবং গেরিলাদের উপস্থিতি, সশস্ত্র প্রচার টিম ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদির মাধ্যমে সামরিক চিন্তাধারা সমূহ চমতাকার সামরিক প্রস্তুতির সৃষ্টি করেছে।

৪) পূর্ববাংলার সশস্ত্র দেশপ্রেমিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিচালক মণ্ডলীর সভাপতির সার্কুলার, বিশেষ সামরিক অঞ্চলের পরিচালকদের সাথে বৈঠক শেষে কমরেড শাহীন আলম প্রদত্ত সিদ্ধান্ত, ১নং ব্যুরো পরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত ৫ম সিদ্ধান্ত, ১-ক উপব্যুরোর সাথে ১নং ব্যুরো পরিচালকের বৈঠক শেষে তার প্রদত্ত সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক অপারেশন সংক্রান্ত কতিপয় পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এগুলো গৃহীত হয়।

সভায় জাতীয় মুক্তিফ্রন্টের কর্মসূচী ও ঘোষণাপত্র এবং প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

৫) সভায় সদস্য/প্রার্থী সদস্যপদের জন্য আবেদনের আহবান গৃহীত হয়। এ আবেদন পেশের সময়সীমা আরও দুমাস বাড়িয়ে দেওয়া হয় (অর্থাৎ ১৫ই আগস্ট ১৯৭৩ সাল)।

৬) সভায় নিম্নলিখিত দলিলসমূহ গৃহীত হয়ঃ

– একটি কাজ করার উপায়।

– সমালোচনা-আত্মসমালোচনা সংক্রান্ত কতিপয় পয়েন্ট।

– ঐক্য প্রসঙ্গে (সাইক্লো)।

– সংবাদ বুলেটিন (সাইক্লো)।

সর্বহারা পার্টির চাঁদার রশীদ অসম্পূর্ণ। চাঁদার রশীদের বিপরীত পৃষ্ঠায় লেখনীসহ পুনর্মুদ্রণ বা হাতে লিখে সংশোধন করতে হবে।

৭) সশস্ত্র প্রচার টিম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একটি ঐতিহাসিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে সর্বত্র সমাদৃত হচ্ছে। সশস্ত্র প্রচার টিমের তৎপরতা পূর্ববাংলার সর্বত্র চালাবার জন্য আহবান জানানো হচ্ছে।

৮) সভায় সভাপতি কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ, নিয়োগ, সিদ্ধান্তসমূহ অনুমোদিত হয়।

৯) সভায় সকল সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

১০) পরবর্তী সভার তারিখ ঠিক করে সভার কাজ সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন হয়।